যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কেন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় রঙ্গমঞ্চ

 


যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কেন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় রঙ্গমঞ্চ

শিকাগোতে মাত্রই ডেমোক্রেটিক পার্টির কনভেনশন তথা বিশাল এক জমকালো শো বা প্রদর্শনী হয়ে গেল। এই শোতে সবই ছিল: চোখধাঁধানো মনরাঙানো গানবাজনা ছিল। রক্ত গরম করা বক্তৃতা ছিল। ভক্তিপূর্ণ ধর্মীয় আচার ছিল। অশ্রুর বন্যা ছিল। আশা মোড়ানো প্রতিশ্রুতি ছিল। আনন্দময় মুহূর্ত ছিল। অপরাহ উইনফ্রে (বিশ্বখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব) ছিল। আর ছিল অগণিত রংবেরঙের বেলুন।

কনভেনশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস যেভাবে নিজেকে ‘উপস্থাপন’ করেছেন, টেলিভিশন ভাষ্যকারেরা তার বিস্ময়কর বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁদের সেই বর্ণনায় সব ছিল। কমলার হাসি, তাঁর শারীরিক ভাষা, তাঁর কণ্ঠ মাধুর্য, এমনকি তাঁর পোশাকের রুচিজ্ঞান পর্যন্ত বাদ পড়েনি।

তো স্বৈরশাসন বা গণতন্ত্র—যেখানকার কথাই বলুন, রাজনীতিতে আসলে সব সময়ই প্রদর্শন প্রবণতা বা দেখনদারির বিষয়-আশয় থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সঙ্গে বিচিত্র বিনোদন দীর্ঘদিন থেকে অবিচ্ছেদ্য ব্যাপার হয়ে আছে।

বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক এইচ এল মেনকেন রাজনীতিবিদদের বলা যায় ঘৃণা করতেন। তিনি মনে করতেন, বেশির ভাগ আমেরিকান রাজনীতিকের রাজনীতি-জ্ঞান নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলনের একজন দুর্দান্ত পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি। সেই মেনকেন ১৯২৭ সালে লিখেছিলেন, ‘আমার চোখে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও অতুলনীয় প্রদর্শনী মঞ্চ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন’।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে কি প্রার্থীদের তাঁদের পরিবারের প্রতি থাকা ভালোবাসাও মঞ্চে গিয়ে দেখাতে হবে? মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বামী-স্ত্রী বা স্বজনদের আলিঙ্গন করা ও চুমু খাওয়ার সঙ্গে রাজনীতির কী সম্পর্ক? ভোটারদের মন জয় করার জন্য ব্যক্তিগত আন্তরিকতার বাজারি প্রদর্শন কি আদতেই জরুরি?

হ্যাঁ, আমেরিকায় তো তাই দেখা যাচ্ছে।

গণতন্ত্রে ভোটাররা তাঁদের পছন্দের রাজনৈতিক দল এবং তাঁদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করা প্রার্থীকে ভোট দিয়ে থাকেন। নির্বাচনে ব্যক্তির ক্যারিশমা একধরনের ভূমিকা পালন করে—এটি সত্য। কিন্তু বেশির ভাগ রাজনীতিবিদের মধ্যে একক ব্যক্তিগুণ দিয়ে ভোটার আকৃষ্ট করার ক্ষমতার অভাব আছে।

সাধারণত এশীয় ও ইউরোপীয় রাজনীতিবিদেরা আমেরিকান রাজনীতিবিদদের মতো ভোটের সময় নিজেদের উষ্ণ ও রোমান্টিক মেজাজের মানুষ হিসেবে জনসাধারণের কাছে উপস্থাপন করে আত্মবিক্রয়ে আগ্রহী হন না।

ঐতিহ্যগতভাবে জনগণ রাজা-রানিদের কাছে এ ধরনের ব্যক্তিগত প্রদর্শন প্রবণতা আশা করে। কিন্তু ভোটে নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিজীবনের প্রদর্শনী নিয়ে তাঁদের আগ্রহ খুব একটা থাকে না

Comments

Popular posts from this blog

এখন আর ব্যাটার দের মন খারাপ হয় না : হাসান মাহমুদ

Navy launches USS New Jersey, first gender-neutral submarine in US fleet

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করবে যুক্তরাষ্ট্র